এবার ঢাকার পোস্তা ও সাভার বিসিক শিল্পনগরীতে কোরবানির ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৯৬টি গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, খুলনা ও চট্টগ্রামে আরো ২০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩৭টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ছয় বিভাগে মোট ২৫ লাখ ২৬ হাজার ২৩৩টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাভার বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে মঙ্গলবার (১০ জুন) পর্যন্ত ১ হাজার ৬৫৭টি ট্রাকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২৯৬টি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার চামড়া প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৮টি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া ২০ হাজার ৯২৮টি। আর ঢাকার পোস্তায় গরুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে ৮০ হাজার।
সর্বোচ্চ চামড়া সংরক্ষণ চট্টগ্রামে
এবার চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে কোরবানির ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫৬টি গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৭ লাখ ৪৫৪টি। ছাগলের চামড়া ৭৪ হাজার ৩০২টি। বিভাগটির জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ২ লাখ ৭২ হাজার ১০০টি, কক্সবাজারে ৩৭ হাজার ৮৮৯টি, নোয়াখালীতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৩১টি, চাঁদপুরে ২৩ হাজার ৬৫টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯৯ হাজার ৭৩১টি, খাগড়াছড়িতে ৫ হাজার ৮৪৯টি, লক্ষ্মীপুরে ১১ হাজার ৮৩৭টি, ফেনীতে ১৩ হাজার ৫০৯টি, রাঙ্গামাটিতে ২ হাজার ৮৪৮টি, বান্দরবানে ২ হাজার ২৯৯টি এবং কুমিল্লায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৮৫টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগ
রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫২৪টি গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ১ লাখ ১০ হাজার ৯০৫টি। আর ছাগলের চামড়া ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৯টি। বিভাগটির জেলাগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে ৬৭ হাজার ২৪৭টি, নাটোরে ৫৩ হাজার ৫১৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬ হাজার ৭৩৮, বগুড়ায় ২৩ হাজার ৪৩৬, পাবনায় ১৫ হাজার ৯৮৪, সিরাজগঞ্জে ২৩ হাজার ২২২, নওগাঁয় ২১ হাজার ২৭৩ এবং জয়পুরহাটে ৬৬ হাজার ১১১টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগ
সিলেট বিভাগের চার জেলার মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে ২ লাখ ৯ হাজার ৩৪৫টি গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৪৫টি এবং ছাগলের চামড়া ২২ হাজার। বিভাগটির জেলাগুলোর মধ্যে সিলেটে ১ লাখ ১০ হাজার ৩৫০টি, সুনামগঞ্জে ১৭ হাজার ৩০০, হবিগঞ্জে ৩২ হাজার ৭০টি এবং মৌলভীবাজারে ৪৯ হাজার ৬২৫টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সবচেয়ে কম বরিশালে
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং এবং বিভিন্ন আড়তে ফড়িয়া ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে কোরবানির ১ লাখ ৮০ হাজার ৫১৮ পিস গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৩টি এবং ছাগলের চামড়া ১৩ হাজার ৮২৫টি। বিভাগটির জেলাগুলোর মধ্যে বরিশালে ৬১ হাজার ২৮৮টি, ঝালকাঠিতে ১৩ হাজার ৩০৮, পিরোজপুরে ১৮ হাজার ৩৭৩, বরগুনায় ১২ হাজার ৪৫৫, ভোলায় ৩৭ হাজার ৪৪ এবং পটুয়াখালীতে ৩৮ হাজার ৫০টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগ
রংপুর বিভাগের আট জেলার মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং এবং বিভিন্ন আড়তে কোরবানির ২ লাখ ৮১ হাজার পিস গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ২ লাখ ২৪ হাজার এবং ছাগলের চামড়া ৫৬ হাজার পিস। বিভাগটির জেলাগুলোর মধ্যে পঞ্চগড়ে ৪০ হাজার, ঠাকুরগাঁওয়ে ৫২ হাজার, দিনাজপুরে ২৫ হাজার, নীলফামারীতে ২৫ হাজার ৫০০, রংপুরে ৪০ হাজার, গাইবান্ধায় ৫৮ হাজার ৫০০, লালমনিরহাটে ১৮ হাজার এবং কুড়িগ্রামে ২৩ হাজার গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগ
খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৪টি গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ১ লাখ ১৯ হাজার ১১২টি এবং ছাগলের চামড়া ২ লাখ ৭ হাজার ৬৮২টি। বিভাগটির জেলাগুলোর মধ্যে খুলনায় ২২ হাজার ৭৪২টি, যশোরে ৭৫ হাজার ১৮৫, চুয়াডাঙ্গায় ৬ হাজার ৭২, বাগেরহাটে ১৩ হাজার ৫৭, নড়াইলে ৩০ হাজার ৭১৫, মাগুরায় ৭ হাজার ১৫২, মেহেরপুরে ১৮ হাজার ৮৫, ঝিনাইদহে ৯৩ হাজার ৭৩৬, কুষ্টিয়ায় ৩৬ হাজার ৭৩৭ এবং সাতক্ষীরায় ২৩ হাজার ৩১৩টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে।